দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে নিজেদের সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করার পাশাপাশি বৈশ্বিক তেল সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হুথিরা ঘোষণা দিয়েছে, ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ভিত্তিতে তারা ‘অপরাধী সৌদি শত্রুর’ বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সামুদ্রিক অবরোধ কার্যকর করছে।
কারা এই হুথিরা?
হুথি আন্দোলন, যা ‘আনসার আল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর সমর্থক’ নামেও পরিচিত, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের অন্যতম প্রধান পক্ষ। নব্বইয়ের দশকে এর নেতা হুসেইন আল-হুথি ‘বিশ্বাসী যুবক’ নামে একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলন শুরু করেন। এর লক্ষ্য ছিল শিয়া ইসলামের বহু শতাব্দী পুরোনো জায়দি ধারার অনুসারীদের সংগঠিত করা।
জায়দিরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ইয়েমেন শাসন করলেও ১৯৬২ সালের গৃহযুদ্ধের পর ক্ষমতায় আসা সুন্নি সরকারের অধীনে তারা প্রান্তিক হয়ে পড়ে। আল-হুথির আন্দোলন জায়দিদের প্রতিনিধিত্ব এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের ওয়াহাবি মতাদর্শসহ উগ্র সুন্নি ধারার বিরোধিতা করার লক্ষ্যেই গড়ে ওঠে। তার অনুসারীরাই পরে ‘হুথি’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ
২০১৪ সালে হুথি যোদ্ধারা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে হুথিদের প্রতিহত করতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।
২০২২ সালে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও তা ছয় মাসের কিছু সময় পরই ভেঙে যায়।
ইরানের সমর্থন
হুথিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট। ২০১৪ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে থাকায় তেহরান গোষ্ঠীটির প্রতি সহায়তা বৃদ্ধি করে।
২০২১ সালে কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক অধ্যয়নবিষয়ক কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান হুথিদের সমুদ্রে পাতা মাইন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন উড়োজাহাজসহ বিভিন্ন অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে।
হুথিরা ইরানের কথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অংশ, যা ইসরায়েল ও পশ্চিমাবিরোধী আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি জোট।
কতটা শক্তিশালী হুথিরা?
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, হুথিদের নিজস্বভাবে তৈরি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা, নির্ভুলতা ও ধ্বংসক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত এক কর্মকর্তা এর আগে সিএনএনকে জানান, শুরুতে হুথিদের দেশীয় অস্ত্র মূলত খণ্ড খণ্ড অবস্থায় ইয়েমেনে পাচার করা ইরানি যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি করা হতো।
এর আগে হুথিরা ড্রোন ও জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এসব জাহাজের কিছু ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল না বলেও ধারণা করা হয়। ওই সময় লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস কার্নি’ বিপদসংকেত পাওয়ার পর সাড়া দিয়েছিল।
সূত্র: সিএনএন
/অ